পৌষ পার্বন মকর সংক্রান্তি …….. ঘরে ঘরে পিঠেপুলি এসো পৌষ যেও না পৌষপার্বনের কবিতা-২

পৌষ পার্বন মকর সংক্রান্তি …….. ঘরে ঘরে পিঠেপুলি
অজয়ের ঘাটে সবাকার আহ্বান- এসো পৌষ যেও না।

তথ্যসংগ্রহ সম্পাদনা ও কলমে – লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

মকর সংক্রান্তির তারিখ
আগামীকাল ১৫ জানুয়ারি পালিত হবে মকর সংক্রান্তি । ১৪ জানুয়ারি রাত ২:০৭ মিনিটে শুরু পড়ছে সংক্রান্তি। বুধবার এই সংক্রান্তির পূণ্য সময় শুরু হচ্ছে ৭:১৫ মিনিটে আর শেষ হচ্ছে বিকেল ৫:৪৬ মিনিটে। মোট ১০ ঘন্টা স্থায়ী হবে মকর সংক্রান্তি।

মকর সংক্রান্তির দিন বীরভূমের কেঁদুলি গ্রামে ঐতিহ্যময় জয়দেব মেলা অনুষ্ঠিত হয়। ‘গীতগোবিন্দ’র স্রষ্টা কবি জয়দেব কেঁদুলি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এই নিয়ে অবশ্য বিতর্ক আছে। কেউ কেউ বলেন ওড়িশার জন্ম জয়দেবের। লক্ষ্মণ সেনের সভাকবি ছিলেন জয়দেব। বীরভূমের বোলপুরে অবস্থিত একটি গ্রাম কেঁদুলি। সেখানেই পৌষ সংক্রান্তিতে উৎসবে মেতে ওঠেন বহু মানুষ।

অজয়ের তীরে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এখন এই মেলা ধর্মীয় তীর্থস্থানে পরিণত হয়েছে। মকর সংক্রান্তির দিন এখানে বাউল মেলা বসে। বহু মানুষ বাউল গানের টানেও ছুটে যান। এখন এখানে অনেক আশ্রম ও মন্দির গড়ে উঠেছে। দিন দিন এই মেলায় মানুষের ভিড় বেড়েই চলেছে। এবারও জয়দেবের মেলায় ভিড় উপচে পড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কেঁদুলিতে দ্বাদশ শতকে কবি জয়দেবের জন্ম। শীতকালের পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই উৎসব পালন করা হয় পৌষ মাসের শেষের দিন। ওই দিন বাঙালিদের বাড়িতে নানা রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়। এই উৎসবকে কেন্দ্র করেই পিঠে পুলি বানানো হয়। অনেকে আবার এই দিনে ঘুড়ি উড়ায়। এদিন সন্ধ্যাবেলায় ফানুস ওড়ানোর মধ্যে দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি হয়। এদিন অনেকে জয়দেবের মেলায় যান।

তথ্যসহায়তায়: আনন্দবাজার পত্রিকা

পৌষ পার্বন মকর সংক্রান্তি …….. ঘরে ঘরে পিঠেপুলি
এসো পৌষ যেও না ( পৌষপার্বনের কবিতা-২)

কলমে- লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

পৌষ মাস সংক্রান্তি
অজয়ের ঘাটে,
আজ হতে জমে ভিড়
সারাদিন কাটে।

নদীঘাটে খুঁটি পুঁতে
মোটা পাকা বাঁশে,
ত্রিপল টাঙায় তাতে
দোকানীরা আসে।

তেলেভাজা ও ফুলুরি
চপের দোকান,
চা আর বেগুনী বেচে
আর বেচে পান।

নদীচরে বাউলেরা
একতারা হাতে,
আনন্দেতে নাচে গায়
সবে একসাথে।

অজয়ের নদীঘাটে
পড়ে আসে বেলা,
ধীরে ধীরে জমে ওঠে
সংক্রান্তি মেলা।

নদীঘাট ভরে যায়
ভারি কোলাহল,
বিক্রি হয় চুড়ি, মালা,
রবারের বল।

কেহবা বেলুন বেচে
নদী কিনারায়,
নদীতে কেহবা বসে
বাঁশরী বাজায়।

অজয় নদীতে স্নান
করে যেইজন,
মহাপূণ্য লাভ হয়
কহিছে লক্ষ্মণ।

লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী করে
সবারে আহ্বান,
অজয়ের ঘাটে আসি
করো পূণ্যস্নান।

লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী সম্পর্কে

লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী –নামেই কবির পরিচয়। কবির বাড়ি পশ্চিমবঙ্গে বর্ধমান জেলার পাথরচুড় গ্রামে। প্রকৃতির সাথে পরিচয় ছোটবেলা থেকেই। বর্তমানে কবি বাংলা কবিতার আসর, বাংলার কবিতা ও কবিতা ক্লাবের সাথে যুক্ত। অবসর সময়ে কবি কবিতা লেখেন ও স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন। কাব্যচর্চার সাথে সাথে তিনি সাহিত্যচর্চাও করেন। গল্প ও রম্য রচনা আর ছোট গল্প লিখেন। বহু একাঙ্ক নাটকও তিনি লিখেছেন। অন্ধকারের অন্তরালে, সমাজের শত্রু ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও বহু যাত্রাপালা -সোনা ডাকাত, শ্মশানে জ্বলছে স্বামীর চিতা উল্লেখযোগ্য। কবির অভিনয় প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে বিচারক মণ্ডলী তাঁকে বহু সম্মানে ভূষিত করেছেন। লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী একাধারে কবি ও অপর দিকে লেখক। তার লেখা “আমার গাঁ আমার মাটি”, আমার প্রিয় শহর জামুরিয়া, আমার প্রিয় শহর কুলটি, আমার প্রিয় শহর আসানসোল, আমার প্রিয় শহর রাণীগঞ্জ বহু পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী প্রকৃতপক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বী হয়েও তিনি অন্য ধর্মকেও শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করেন। তিনি বিশ্বাস করেন সব মানুষই ঈশ্বরের সন্তান। তাই ধর্মে আলাদা হলেও আমরা সবাই ভাই ভাই।