রেজা রাশিদ এর সকল পোস্ট

রেজা রাশিদ সম্পর্কে

জণ্ম ১৯৭১, স্থান গোপালগঞ্জ, বড় হয়েছি দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গ, স্কুল কলেজ ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ। খূলনা বিশ্ব বিদ্যালয়। পেশা - স্থাপত্য নির্মাণ, উপদেষ্টা, শখ - গান, ছবি, সাহিত্য, কর্ম স্থল ঢাকা।

আমার আমি – রেজা রাশিদ

আমার ‘আমি’
———————
প্রতিটি মানুষের জন্মের কিছুকাল পরে আবার একবার জন্ম হয়। সেই জন্মটা তার চেতনায় অনুভূতি আসার মুহুর্তকালকেই বলা যায়। যদিও অবচেতন মন জন্মলগ্ন থেকেই অনুভবক্ষম; কিন্তু সেই ডাইমেনশনে এসে সে তা প্রকাশে অক্ষম।

আমি যখন আমার প্রকাশক্ষম অনুভবের মুহুর্তে আমার ভিতরের আমিকে নিজে বুঝে অপরকে বোঝানোর মত সক্ষমতা অর্জন করলাম, সেই মুহুর্তটা যদিও নির্দিষ্ট করে বলতে পারব না; তবে সেই ছিল আমার ভিতরের আমিকে নিজে উপলব্ধির মুহুর্ত।

কেমন ছিলো সেই অনুভব? ৷৷৷৷ আমি চোখ মেলতেই দেখতাম সবাই মিষ্টি হাসি দিয়ে আমার মুখটা হাসিমাখা দেখতে চাইছে, আমিও হাসতাম, রং তখনো বুঝতাম না। কোন কিছু নড়লে সেদিকে চোখ যেত এবং চোখের সাথে চেতনা ও স্বভাবতই ধাবিত হতো।

মা কে মা ডাকবো নাকি আম্মা ডাকবো, তখনও জানি না। তবে ওই একটা মুখই বারবার চোখের সামনে আসতো, ভাসতো এবং বিহবলতায় অবচেতনে সম্মোহনে জড়িয়ে রাখতো!

আর ছিলো ক্ষুধার অনুভব। খাবারের ঝোঁকটা তখনও প্রকৃতি প্রদত্ত।

ক্ষণে ক্ষণে একটা মিষ্টি সুবাস ই সব সময় খুঁজে বেড়াতাম হয়তো। এ ছাড়া অতশত কিছু এখন আর মনে নাই।

সময়ের সাথে ধীরে ধীরে রং, খেলনা, খাবার, মা, বাবা, বোন একটু একটু চিনতে হয়তো শিখলাম, কিন্তু তখনও নিজের বলে কিছু তৈরী হয়নি। অর্থাৎ আমার ‘আমি’ পূর্ণভাবে সামনে এসে দাঁড়ায়নি।

যখন বুঝলাম “আমি “ বলে একটা জৈবিক অনূভূতি আমাকে গ্রাস করছে, তখন খেলনা, খাবার, প্রিয় মুখ, এসব আমাকে টানতে লাগল। আমিত্ব নামক এক প্রাকৃতিক স্বত্তাধিকার তখনও আমার চেতনায় যোগ হয়নি।

(ক্রমশঃ)