আমারো দারুন বাঁচবার ইচ্ছে হয়েছিল।
ছয় বছরের আমি মেজভাইয়ের পকেট থেকে
চুরি করেছিলাম পাঁচটি পিতল পয়সা
যা জেনে কেঁদে ফেলেছিল মা
মরমে মরেও আমি মরতে চাইনি সেদিন।
ঝলমল এর পুতুলের বাক্স থেকে চুরি করেছিলাম
কাপড়ের চুলওয়ালা পুতুল
ইজেরের ভেতর গুটিয়ে রাখা সেজআপার লিপস্টিক
সাত বছর বয়সের পর আর চুরি করিনি বাঁচবার ইচ্ছেতেই।
এরপরে কত পাপ চলে গেছে চুল থেকে নখে
বর ছিল একজন আমার বন্ধু হয়নি কেউ
বিছনার পাশে হাত ধরে বসে থাকেনি উন্মুখ দুই চোখ
কেউ বলেনি, ঘুমোও পাশেই আমি আছি।
সবুজ কলমি যতবার হাতছানি দিয়ে ডেকেছে
রাতের নক্ষত্র যতখানি পারফিউম ছুঁড়ে দিয়েছে
বছর বছর প্রতিবারের বৃষ্টিকেই মনে হয়েছে নতুন
আকাশ চিরে রোদ টেনেছে আমাকে ব্রোঞ্জের সভ্যতায়।
সমুদ্র দেখবার অদম্য আকাঙ্খা টেনে নিয়ে গেছে তার কাছে
প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের চুর্ণ ধুলি
দূর থেকে ডেকেছে রাতের হুইসেলে ছেলেবেলার স্মৃতিতে
পাহাড়ে যাবার অযুত কোটি সখে আমি ছুটে গিয়েছি।
মৃত্যুময় রোগ শয্যা থেকেও জীবন ডেকে গেছে তবু
অনেকবার মরন চেয়েছি শরীরব্যাপী
আমার বন্ধু ছিল না কেউ, দারুন একাকিত্বেও
তবু আমি বেঁচে গেছি, বেঁচে থেকেছি বাঁচবার ইচ্ছেতেই।
কত অপ্রাপ্তির পরও পুতুল আমি বেঁচেই থাকি দারুন বেহায়া।
.
(২০১৫ এর এই দিনে একটি মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনা জানার পর লেখা)
যাপিত জীবনের ছোট ছোট অনুভূতির অনুভব অসামান্য হয়ে উঠে এসেছে আপনার লিখায়। যতবার পড়ি মুগ্ধ হই। অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইলো আপনার জন্য কবিবন্ধু।

অত্যন্ত সুন্দর লেখাটি।ভীষণ ভালো লেগেছে আমার।
অসাধারণ একটা কবিতা
শুভকামনা রইল সদা