শ্রী শ্রী ঠাকুরের জীবনী ও বানীপাঠ (দশম পরিচ্ছেদ)

শ্রী শ্রী ঠাকুরের জীবনী ও বানীপাঠ (দশম পরিচ্ছেদ)
সংগ্রহ ও সম্পাদনা- লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী

যুগ পুরুষোত্তম শ্রী শ্রী ঠাকুরের জীবনদায়ী বানী

পরম দয়াল শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের মুখনিঃসৃত যে হাজার হাজার বাণী ও প্রশ্ন-উত্তর যা কিনা মনুষ্য জীবনে অমৃততুল্য, মাতৃদুগ্ধের ন্যায় অপরিহার্য। তাঁর একেকটি বাণী এককটি মুমূর্ষু মানবের কাছে জীবনদায়ী। ভাষা দিয়ে পরম প্রেমময় শ্রী শ্রী ঠাকুরের প্রকাশ ঘটানো কখনো সম্ভব না।

জানালার ছিদ্র দিয়ে মহাকাশ পর্যবেক্ষণ যেমন সম্ভব নয়। পরম দয়াল শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র, আচার্য দেব শ্রী শ্রী দাদার মধ্যে কতটা প্রকট তা, শ্রী শ্রী ঠাকুরের বাণীতে পাই:

‘দেবদেবতা হাজার ধরিস্
আচার্য যার ইষ্ট নয়
স্পষ্টতর বুঝে রাখিস্
জীবন চলনায় নেহাৎ ভয়।’

আসুন, আমরা সকলেই শ্রী শ্রী ঠাকুরের নির্দেশিত চলার পথে এগিয়ে যাই
আর আমাদের এই তুচ্ছ জীবনকে ধন্য করে তুলি।
সাথে থাকুন, পাশে রাখুন।
জয়গুরু!

পরম প্রেমময় শ্রী শ্রী ঠাকুরের চলার সাথী গ্রন্থ থেকে পাঠ

সৃজন-প্রগতি

ক্ষুব্ধ-সম্বেগে অব্যক্তের বুকে দ্রুত ব্যঞ্জনায় বিঘূর্ণিত সত্তার উচ্ছৃষ্ট-বিচ্ছুরণ-সংবিদ্ধ সংঘাতকম্পিত ছন্দে ভাসমান শক্তি-শরীরী প্রতিধ্বনিই আদিবাক্—সৃষ্টির প্রথম প্রগতি !

কম্পিত-কল,সৃজন-উৎস সেই স্ফুটবাক্ বিজৃম্ভিত-সম্বেগে,আত্ম বিচ্ছুরণে,সহসম্পদে,ভাস-বিস্ফোরণে,বহুধা-প্রকটে পর্য্যবসিত হইয়াও তাহাই থাকিলেন—অব্যক্তেরই বুকে ! — কিন্তু সে স্পন্দনে ব্যক্ত- বিমুখ সাড়া দিল না !

স্পন্দনপ্লুত, বিপ্লব-বহ্নি, শক্তি-সমুদ্র, ঘোষ-কল,জাতবাক্ প্রকট-প্রাচুর্য্য হইয়াও তদবস্থ !– তিনিই ঈশ্বর, আদিবাক্–পরমদৈবত !

অব্যক্তে বিরাগ-সম্বেগজ-বীচিস্পন্দিতসত্তা সংক্ষুধিত-আবেগ কম্পনে সিসৃক্ষু হইয়া উদ্বুদ্ধ-সৃজন-স্রোতে বিক্ষুব্ধ সংঘাতে ব্যাবর্ত্ত বৃত্তাভাসে চেতনোদ্দীপ্ততায় অসম-বহুল-প্রকটপরায়ণ হইলেন— আর তিনি প্রোদিতবাক্ !—

বিচ্ছুরিত সত্তার বিশ্লিষ্ট-বিভেদান্তরালে বিক্ষুব্ধ-ব্যষ্টিতে বিভিন্ন-বোধ উপ্ত করিয়া- অনুস্যূত-আকর্ষণ-উপেক্ষায় সমত্ব হরণ করিল যে– সে-ই অব্যক্ত !
চলার সাথী
তুমি জগতে প্লাবনের মত ঢলিয়া পড়–সেবা, উদ্যম, জীবন ও বৃদ্ধিকে লইয়া ব্যাষ্টি ও সমষ্টিতে তোমার আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করিয়া–জয়, যশ ও গৌরবের সহিত;–আর, নারী যদি চায়-ই তোমাকে তবে ছুটুক সে তার মঙ্গলশঙ্খনিনাদে সব-প্রাণ মুখরিত করিয়া তোমার দিকে,–কিন্তু সাবধান ! — চেও না তুমি তা’ !

শ্রী শ্রী ঠাকুরের সত্যানুসরণ গ্রন্থ থেকে পাঠ
যতদিন তোমার শরীর ও মনে ব্যাথা লাগে, ততদিন তুমি একটি পিপীলিকারও ব্যথা নিরাকরনের দিকে চেষ্টা রেখো, আর যদি না কর, তবে তোমার চাইতে হীন আর কে?

তোমার গালে চড় মারলে যদি বলতে পার, কে কাকে মারে, তবে অন্যের বেলায় বল, ভালই। খবরদার, নিজে যদি না ভাবতে পার তবে অন্যের বেলায় বলতে যেও না।

যদি নিজের কষ্টের বেলায় সংসারী সাজো, অন্যের অন্যের বেলায় ব্রহ্মজ্ঞানী সেজো না। বরং নিজের দুঃখের বেলায় ব্রহ্মজ্ঞানী সাজো আর অন্যের বেলায় সংসারী সাজো, এমন ভেলও ভাল।

যদি মানুষ হও তো নিজের দুঃখে হাস, আর পরের দুঃখে কাঁদ। নিজের মৃত্যু যদি অপছন্দ কর তবে কখনও কাউকে মর বলো না।

**********
হাসো, কিন্তু বিদ্রুপে নয়।কাঁদো, কিন্তু আসক্তিতে নয়, ভালবাসায়, প্রেমে।

বল, কিন্তু আত্মপ্রশংসায় বা খ্যাতি বিস্তারের জন্য নয়। তোমার চরিত্রের কোনও উদাহরণে যদি কারো মঙ্গল হয়, তবু তার নিকট তা গোপন রেখো না। তোমার সৎস্বভাব কর্মে ফুটে উঠুক, কিন্তু আপন ভাষায় ব্যক্ত না হয়, নজর রেখো। সৎ-এ তোমার আসক্তি সংলগ্ন কর, অজ্ঞাতসারে সৎ হবে। তুমি আপনভাবে সৎ-চিন্তায় নিমগ্ন হও, তোমার অনুযায়ী ভাব আপনি ফুটে বেরুবে।

অসৎ চিন্তা যেমন চাহনিতে , বাক্যে, আচরনে, ব্যবহারে ইত্যাদিতে ফুটে বেরোয়, সৎ-চিন্তাও তেমনি উক্তরূপেই ফুটে বেরোয়।

**********
স্পষ্টবাদী হও, কিন্তু মিষ্টভাষী হও। বলতে বিবেচনা কর, কিন্তু বলে বিমুখ হয়ো না!

যদি ভুল বলে থাক, সাবধান হও, ভূল করো না।

সত্য বল, কিন্তু সংহার এনো না। সৎ কথা বলা ভাল, কিন্তু ভাব, অনুভব করা আরোও ভাল।

অসৎ কথা বলার চেয়ে সৎ কথা বলা ভাল নিশ্চয়, কিন্তু বলার সঙ্গে কাজ করা ও অনুভব না থাকলে কী হলো-বেহালা, বীণা যেমন বাদকানুগ্রহে বাজে ভাল, কিন্তু তারা নিজে কিছু অনুভব করতে পারে না।

যে অনুভুতির খুব গল্প করে অথচ তার লক্ষণ প্রকাশ পায় না, তার গল্পগুলি কল্পনা-মাত্র বা আড়ম্বর।
যত ডুববে তত বেমালুম হবে।

যেমনি ডালিম পাকলেই ফেটে যায়, তোমার অন্তরে সৎভাব পাকলেই আপনি ফেটে যাবে-তোমার মুখে তা প্রকাশ করতে হবে না।

**********
যে-খেয়াল বিবেকের অনুচর তারই অনুসরন কর, মঙ্গলের অধিকারী হবে।

বিস্তারে অস্তিত্ব হারাও, কিন্তু নিভে যেও না। বিস্তারই জীবন, বিস্তারই প্রেম।

যে-কর্মে মনের প্রসারন নিয়ে আসে তাই সুকর্ম, আর যাতে মনে সংস্কার, গোঁড়ামী ইত্যাদি আনে, ফলকথা, যাতে মন সংকীর্ণ হয় তাই কু-কর্ম।

যে-কর্ম মানুষের কাছে বলতে মুখে কালিমা পড়ে, তা করতে যেও না। গোপন যেখানে ঘৃণা-লজ্জা-ভয়ে সেখানেই দুর্ব্বলতা, সেখানেই পাপ!

যে-সাধনা করলে হৃদয়ে প্রেম আসে, তাই কর, আর যাতে ক্রুরতা, কঠোরতা, হিংসা আসে, তা আপাততঃ লাভজনক হলেও তার কাছে যেও না।

তুমি যদি এমন শক্তি লাভ করে থাক যাতে চন্দ্র-সূর্য্য কক্ষচ্যুত করতে পার, পৃথিবী ভেঙ্গে টুকরা-টুকরা করতে পার বা সব্বাইকে ঐশ্বর্য্যশালী করে দিতে পার, আর যদি হৃদয়ে প্রেম না থাকে, তবে তোমার কিছুই হয়নি।

**********

এবার আমার পরবর্তী বিভাগ “ভারত সূর্য ডুবে গেল হায়!” পর্বে পর্বে প্রকাশ দেওয়ার আশা রাখি। সকলের সহযোগিতা ও আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে নতুন বিভাগটি আগামী দিন থেকে নিয়মিত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে। শেষাংশে সংযোজিত করা হবে ভারতের শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার জীবন আলেখ্য গীতি নাটকের কয়েকটি দৃশ্যায়ন।
সাথে থাকুন, পাশে রাখুন। জয়গুরু!

লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী সম্পর্কে

লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী –নামেই কবির পরিচয়। কবির বাড়ি পশ্চিমবঙ্গে বর্ধমান জেলার পাথরচুড় গ্রামে। প্রকৃতির সাথে পরিচয় ছোটবেলা থেকেই। বর্তমানে কবি বাংলা কবিতার আসর, বাংলার কবিতা ও কবিতা ক্লাবের সাথে যুক্ত। অবসর সময়ে কবি কবিতা লেখেন ও স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করেন। কাব্যচর্চার সাথে সাথে তিনি সাহিত্যচর্চাও করেন। গল্প ও রম্য রচনা আর ছোট গল্প লিখেন। বহু একাঙ্ক নাটকও তিনি লিখেছেন। অন্ধকারের অন্তরালে, সমাজের শত্রু ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও বহু যাত্রাপালা -সোনা ডাকাত, শ্মশানে জ্বলছে স্বামীর চিতা উল্লেখযোগ্য। কবির অভিনয় প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে বিচারক মণ্ডলী তাঁকে বহু সম্মানে ভূষিত করেছেন। লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী একাধারে কবি ও অপর দিকে লেখক। তার লেখা “আমার গাঁ আমার মাটি”, আমার প্রিয় শহর জামুরিয়া, আমার প্রিয় শহর কুলটি, আমার প্রিয় শহর আসানসোল, আমার প্রিয় শহর রাণীগঞ্জ বহু পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী প্রকৃতপক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বী হয়েও তিনি অন্য ধর্মকেও শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করেন। তিনি বিশ্বাস করেন সব মানুষই ঈশ্বরের সন্তান। তাই ধর্মে আলাদা হলেও আমরা সবাই ভাই ভাই।

7 thoughts on “শ্রী শ্রী ঠাকুরের জীবনী ও বানীপাঠ (দশম পরিচ্ছেদ)

  1. শ্রী শ্রী ঠাকুরের জীবনী ও বানীপাঠ করলাম মি. লক্ষ্মণ ভাণ্ডারী। শুভ সকাল। https://www.shobdonir.com/wp-content/plugins/wp-monalisa/icons/wpml_flowers.gif

    1. আপনার সুন্দর মন্তব্যে অনুপ্রাণিত হলাম। প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে
      সর্বদাই সাথে থাকবেন এটাই অনুরোধ রাখি।
      ঈদের শুভেচ্ছা জানাই। জয়গুরু!

    1. আপনার সুন্দর মন্তব্যে অনুপ্রাণিত হলাম।
      সাথে থাকবেন সর্বদাই
      জয়গুরু!

    1. শ্রী শ্রী ঠাকুরের রাতুল চরণে প্রণাম জানাই।
      আপনার সুন্দর মন্তব্যে অনুপ্রাণিত হলাম।
      সাথে থাকবেন সর্বদাই
      জয়গুরু!

মন্তব্য প্রধান বন্ধ আছে।