বিভাগের আর্কাইভঃ কবিতা

বিভোর

জীবনের সমান্তরালে এক নদী বয়ে গেছে
তার বুকে ফুটে ওঠে থোকা থোকা ফুল
পাহাড় মাঝে মাঝে সেই ফুলে হাত রাখে
সবুজ ছায়া মেলে পাইনের সারি দাঁড়িয়ে

আকাশ তখন তারাদের গানে বিভোর
ভোরের আলো ফুলের রেণু মেখে উচ্ছ্বল
মেঘের ঢেউ মুছে দিয়েছে রাতের কালোরেখা
শিশির ভেজা মাঠে কদমের পাতা ঝরে যায়।

কালের কাক

আমার কিছু হয়নি সমুদ্রের ঘোড়া রোগ
শীতটা যেমন তেমন কেটে গেছে, ডাকেনি ডাহুক
এখন চলছে বসন্ত অন্তহীন
আমার পোড়া অন্তর কবিতার আওয়াজ ক্ষীণ!

এখনও পোড়া ধ্বনি শুনি
শুনি প্রতিধ্বনি আদিম
কামনার শর বারবার আঘাত হানে
কেউ জ্বালে না ভালোবাসার পিদিম!

নৌকো করে জলে ভাসি
বিষণ্ণ প্রহর সেও আমাকে বলে, বড়ো ভালোবাসি
আমার আশেপাশে ঘুরে কালের কাক
যতখুশি ভুল বুঝো প্রেমী, আমিও হয়েছি নির্বাক!!

পাখির ভাষা, মানুষের চলার পথ

পাখিভাষ্য শিখতে পারে না মানুষ। কিন্তু মানুষ পোষে পাখি,
উড়ে যেতে চায় পাখির ডানায়- চলে ও চালায়
জীবন, জীবনের ছায়া- জলের একান্ত প্রতিবিম্ব।

মানুষ যে অক্ষর ধারণ করে বুকের পাঁজরে- তার মাঝে
কি থাকে পাখির জন্য সামান্য ভালোবাসা!
অথবা যারা বৃক্ষ হত্যা করে, নগর পোড়ায়,
দখল করে নদী- তাদের প্রতি কি থাকে পাখির ধিক্কার!

পাখি ও মানুষ একই মাটিতে বসবাস করে পাশাপাশি-
তবু কি এক পরিতাপ এসে বিদ্ধ করে
আমাদের ঋতুকাল, আমাদের সংলগ্ন সবুজ।

কাকাতুয়া চোখ

দূরের কিছু মানুষ দেখা যায়—শাদা পাথর জল
প্রাণ ভাসানো রমণীদের গোপন করা বুদ্ধ হাসি
গড়িয়ে যাচ্ছে দুপুরের নীল টিলা—হাওয়ায়
ডানা মেলছে—পায়চারি পাহাড়, কিনারে দাঁড়িয়ে
সবুজের বুলেট ট্রেন—সন্ধ্যায় পালাচ্ছে পাখিস্বত্ব
এই পরাবাস্তব ধরে অনেক দূর উত্তাপ ছড়ায়–

ঘর–জীবনের চৌকাঠ কোথায় রেখে এসেছি!

একবার নিজ সমাধি জুড়ে—আগাছা দেখি
মুগ্ধ হচ্ছি–সাঁওতাল কন্যাটি কবে আকন্দগাছ
হয়ে জন্মেছিল! অতিশব্দে হেসে ফেলি—
শেষপর্যন্ত বেড়ে ওঠা শিকারি রূপের সুখ–সন্তপ্ত
নিঃশ্বাসের পিঠাপিঠি বাসা বাঁধে, অবনীপ্রান্তর;
আর নরকশয্যা সামলাতে কাকাতুয়া চোখ ধুয়ে নিই

কিছু সময় কাটতো যদি নির্জনে

ch

খোলা আকাশের নিচে একান্ত আমার কিছু সময় হত যদি
চোখ দুটি বানিয়ে রাখতাম নদী,
কাঁদতাম আবার হাসতাম
আবার কল্পতরীতে সুখে ভাসতাম।

কিছু অভিযোগ তুলে ধরতাম প্রকৃতির কাছে
আহারে মনে কতই না অভিমান জমা আছে
দেখিয়ে দিতাম আকাশকে হয়ে উর্ধ্বমুখী,
উচ্ছাস ফিরে পেতে সবুজে দিতাম উঁকি।

একটি নির্জন প্রহর যদি আমার হত
মিহি হাওয়ার মলমে সাড়াতাম বুকের ক্ষত
না পাওয়ার যে হাহাকার মনের কোণে
হাহাকার ছুঁড়ে ফেলে কিছু নতুন স্বপ্ন বুকে যেতাম বোনে।

আমি আকাশের কাছে করতাম অনুনয়
মানুষের সাথে নয় আমার যেন মেঘেদের সাথে বাড়ে প্রনয়,
চোখের কুঠুরিতে মুগ্ধতা কিছু করতাম জমা,
মনকে বানিয়ে রাখতাম না আর নর্দমা।

আমার একান্ত কিছু প্রহর চাই
যেখানে হাউকাউ, স্বার্থের গান নাই
আমি খোলা আকাশের নিচে এক খন্ড জমি চাই
যে জমিতে দাঁড়ালে আকাশ দেখতে পারি, মনে সুখ পাই।

.
(স্যামসাং এস নাইন প্লাস, স্থান অজানা)

… তারপর একটি ফুৎকার

da

নরক থেকে উঠে আসছে
দাহ্য উত্তাপ
তেজস্বী রোদ্দুরে
নামছে গনগনে রশ্মি
নিটোল বৃক্ষ, নীরব
গোমড়ামুখো পত্র পল্লবে
জমেছে
পৃথিবীর সমস্ত কায়া কালিমা;
বায়ুশূন্য
গনগনে আকাশে জ্বলজ্বলে উষ্মা
চোখ রাঙাচ্ছে মানুষের চারণভূমে
মানুষের পাপে
মানুষের ঘৃণায়
অবর্ণনীয় অভিশাপে!..
যেনো
মৃয়মান হয়ে আসছে পৃথিবী
থেমে যাচ্ছে পাখিদের কোলাহল
উধাও বন,বৃক্ষরাজি,তৃণের জঙল
চুকে যাচ্ছে –
জীববৈচিত্র্যের আনাগোনা
মিছে লেনদেন
পতঙ্গভুক
মানুষের মোহ মায়া
চিরন্তন ক্ষুধা তৃষ্ণা… আজন্ম আকাঙ্খা!
রুধীরাক্তের উত্থান-পতনে বিবর্ণ সমুদ্র
বিদীর্ণ চাতালে
ঝাঁকে ঝাঁকে মাছ আত্মহুতি দিতে দিতে
জানিয়ে যাচ্ছে অতলান্ত কাহিনী!..
নির্ভার দুগ্ধ শিশুরা
মাতৃস্তন থেকে মুখ তুলে হাসছে
নিঃশেষের বাকে…
রতিমগ্ন সুখ ত্যাগ করে
রাতের অন্ধকার হাতড়াচ্ছে নবদম্পতি!
নির্ঝর ঝর্ণার স্মৃতি বুকে
দাড়িয়ে থাকা পর্বতশৃঙ্গ, লুপ্ত চোখে
অনন্তের হাহাকার…
বাকী শুধু
ইস্রাফিলের শিঙার গর্জে উঠা!
শুধু একটি ফুৎকার
কেমন হবে সেই ধ্বনি? সেই দুর্মার
ধ্বংসের বীভৎসতা!…

মৃত আত্মারা
দৌড়াচ্ছে উল্কাপিণ্ডের মতো
ঝড়ের বেগে দৌড়াচ্ছে জীবন্ত প্রজাতিরা…

কেউ-ই আর মানুষ নয়
না পশু
না পাখি, জীব জন্তু
অবশেষে সকল আত্মা মিশবে এক মোহনায়
সবার হাতে আমলনামা
কৃতকর্মের ফিরিস্তি দেখে সে-ই কি চিৎকার;
ক্রোধে, শোধে
আর্তনাদে গলবে আগ্নেয় লাভা!…

যার পাদদেশে
অথবা গহ্বরে অনন্তকাল পুড়বে দুর্ভাগারা!

.
১/৬/২৩

মৃত ঘোড়ার মুখ দেখে

হর্সরেস শেষ হয়ে গেছে বেশ আগেই। যারা দেখতে এসেছিল ঘোড়দৌড়
তারা সবাই ফিরে গেছে নিজ নিজ গন্তব্যে। আমি একা দাঁড়িয়ে আছি।
আমার নির্দিষ্ট কোনো গন্তব্য না থাকায়— পথ থেকে পথে দীর্ঘদিন বড়
সুখে বাজিয়েছি সানাই। উৎসব নয়, তবু আনন্দে নেচেছি নদীর মতো।
আর আকাশের সীমানা থেকে ধার নিয়ে কিছু ছায়া, সাজিয়েছি নিজের
চৌহদ্দি। খুঁটি ও খড়ম দেখে যে পুরুষ নির্ণয় করতেন নিজের নিশানা—
ঠিক তার মতোই পিছু হাত দিয়ে তাকিয়েছি তারাবিহীন রাতের দিকে।

এই ঘোড়দৌড়ে এসেও আমি দেখতে চাইনি হার-জিতের ক্ষুদ্রতালিকা।
তাকিয়েছি লাগাম ধরা সওয়ারের দিকে। যে তার নিজের গন্তব্য জানে না,
তার ললাট লিখন দেখে হেসেছি অনেক ক্ষণ। তৃষ্ণায় কাতর ঘোড়াটির
হ্রেষাধ্বনি শুনে ভেঙেছে আমার পাঁজর। তারপর দেখেছি মাঠের মধ্যখানেই
হঠাৎ থেমে গেছে ঘোড়টির বুকের স্পন্দন। ধরাধরি করে ওরা সরিয়ে
নিয়েছে লাল অশ্বদেহ। আর দূরে পড়ে আছে শতবর্ষের পুরনো লাগাম।

মৃত ঘোড়ার মুখ দেখে নিজেকেই পরাজিত মনে হয়েছে বার বার। যে দৌড়
আজ থেকে অর্ধশতক আগে আমি দিয়েছিলাম— সে দিনটি কি বুধবার ছিল !

চিরায়ত


জোছনা চুরির গল্প অনেক শুনেছি
পলিগামী পুরুষের রসায়ন
ভাবতে ভাবতে
নিঃশ্ছিদ্র মশারীর আকার-প্রকার
নির্ধারন করে ফেলি
চাঁদও কি জোছনাভূক প্রানী নাকি
চাঁদেও ফোটে নানাবিধ ফুল!

আমাদের এখানে বৃষ্টি হত
মনে রাখবার মত রাত্রিও নামত
ঋতুবতী গুহানারী একবার চাঁদে ফেলে
এসেছিল লাল রঙটার অর্থ
অন্ধকার আর নীরবতা
যোগ হয়েছিল আলোর সমগোত্রে
যার কারনে গল্পগুলো খরস্রোতা হয়ে গিয়েছিল।

সেই থেকে ওরা গল্প করত সারারাত
যদিও নারীটি বাঁধা থাকত লালঝুঁটি
মোরগের কাহিনীতে যেখানে একটি মেয়ে
জুতার ফিতায় নানারঙ যোগ করে
খলখল হেসে উঠত
পুরুষটা আবার হাসি-কান্না সব থেকেই
আমিষ খুঁটে খেতে শিখেছিল প্রবল।

আদি থেকে এভাবেই চুরি হয়ে যাচ্ছিল
সমস্ত কুলীন নিঃশ্বাস
যা আটকে থাকে প্রতিটি জোছনার রঙে;
রঙভ্রান্তির বিকারে।


তুরাগের জলে ডুবন্ত এক মানুষ দেখেছিলাম
যে বাঁচতে চায়নি মোটেও
তার উর্ধ্বমুখি হাত ছিল না সাধারন
অথচ আমরা তাকে বাঁচিয়েছিলাম আর সে
ক্ষেপে উঠেছিল লজ্জাহীনের মত।

তাকে বাঁচাবার লজ্জায় আমাদের ঘুম নষ্ট হয়
এখনো, আমরা প্রতি রাতে পালা করে
লোকটাকে পাহারা দেই
এরপরে শিলা, এরপরে লিনা
এরপরে একসময় হয়তো আমরা কেউ থাকব না।

লোকটা তখন অনায়াসে ডুবে যেতে পারবে
তখন তার কান্না শুনবে তুরাগ, শুধুই এক নদ।


বিড়ালকে জিজ্ঞেস করা হল, তোমার মুকুটে
কি লাগানো আছে মেয়ে?
বিড়াল তার থাবা মেলে ধরে বলল, মুকুট নেই
শুধু নখে মেখে রেখেছি কাঁটা-কাঁটির সোহাগ!

কর্ময‌জ্ঞে হা‌রি‌য়ে‌ছি মন

ch

‌কোথা দি‌য়ে যে সময়গু‌লো পালায়, পাই না আর টের
সময় হ‌তে নি‌জের জন‌্য সময় আর কর‌তে পা‌রি না বের;
সময় ব‌্যস্ততার যাতাক‌লে ফে‌লে
আ‌মি ছে‌ড়ে উ‌ড়ে যায় দূ‌রে, ডানা মে‌লে।

পাই না ‌নি‌জের জন‌্য সময় আর অফুরন্ত
মন যে হ‌য়ে উঠ‌লো দুরন্ত;
সয় না আর সয় না ব‌্যস্ততার জ্বালা
কত আর দেখ‌বো ক‌র্মের যাত্রাপালা।

পালা‌তে চাই দূ‌রে, যেখা‌নে নেই প‌রি‌চিত জন
‌কে দে‌বে আমায় এক টুক‌রো নির্জন
ক‌বিতার ছন্দ হা‌রি‌য়ে কা‌ঁদি, ‌নিস্তব্ধ ম‌নের বাড়ী
বয়স ফুরা‌য়ে যায়, ক‌বে আর টান‌বো ক‌র্মের পি‌ছে দা‌ঁড়ি।

চাই চাই, অ‌তি চা‌হিদার ভি‌ড়ে আ‌মি আর নাই
আ‌মি যেন ধু‌লো বা‌লি ছাই
ফুঁ দিলেই আ‌মি ‌বিষণ্ণতার সমুদ্দু‌রে হাবুডুবু খাই
‌দিন‌শে‌ষে নি‌জে‌কে বড্ড ক্লান্ত পাই।

আমার বেলাগু‌লো চু‌রি হ‌য়ে যায়, কর্ম বড্ড না‌ছোরবান্দা
স্বা‌র্থের ফুল ফুটা‌তে মানুষজন ক‌রে নিত‌্যই ধান্ধা;
সে ধান্ধা‌তে মন রে‌খে আ‌মি নি‌জে‌কেই হারাই;
ই‌চ্ছে ক‌রে সব ছে‌ড়ে ছু‌ড়ে দূর ‌কোথাও যে‌তে পা বাড়াই।

বু‌কের ভেত‌রে ব‌্যথার নদী
ব‌য়ে চ‌লে‌ছে নিরব‌ধি;
মাথায় বোঝা হয় কর্ম, আ‌মি ভু‌লের পর ক‌রি ভুল
ভুলগু‌লো এ জীব‌নে হ‌বে না আর ফুল।

ভু‌লের সাগর পা‌ড়ি দি‌তে কতই না কষ্ট, কী পে‌রেশা‌নি
কত মন্দ কথা বাহার শু‌নি, শু‌নি কত শাস‌নের বাণী
কা‌জের বোঝা ঘা‌ড়ে চা‌পি‌য়ে তোমরা ত‌ড়িৎ গ‌তি‌তে চাও কাজ
শু‌নো না কান পে‌তে বু‌কের গহী‌নে দীর্ঘশ্বা‌সের আওয়াজ।

দীর্ঘ আলাপ

আমার পাশাপাশি একটা বিকেল—ডুবে যাচ্ছে
হাওয়ার ভেতরে—তারপর গতদিনের জ্যোৎস্না
আজও ফিরে এল, শরতের আলাপে বসে থাকি
দীর্ঘ আলাপ শেষে—পাহাড়ের গারোভাষা যেমন
পাতাছেঁড়া বিদ্যাগ্রন্থ–টিলার গাছ আয়ত্ত করছে
ঘাসেদের বুক চিরে পথ করা মানুষের মনস্কতা—

কখনো তোমার মুখ—কখনোবা আধুলি রূপ
আর বিষণ্ণতা জানতে চেয়ে এখানে দণ্ডিত হই
আমাদের আলাপ বেঁচে থাকলে দেখা হবে
চোখ আর ভুরুর ইশারায়—এই ভেবে একটানা
রাত সমর্পিত হয়—অন্তস্রোতে শীতরেণুর নিঃসঙ্গ
পুতুল নাচ। নিরুত্তর বেড়াল চুপচাপ যষ্টিমধু খায়—
নিরাবরণ ঘাসেরা হেসে ওঠে ছোট শিশুর মতো;

বুকের ধ্রুপদী দাগ

আমাদের বাসার সামনে দিয়ে যে সরু রাস্তা
সবুজ পরিধান করি তুমি রোজ যাও;

তুমি বোধহয় নবম শ্রেণী,
আমিও। তোমাদের স্কুলের বিপরীতে
শ্যাওলা পরা যে দালান ক্রমে ক্ষয়িষ্ণু
হচ্ছে; তার কোন এক ক্লাসে
এলজেব্রা কষতে গিয়ে আটকে যাচ্ছি।

অমনোযোগী ছাত্রের প্রতি
বিপিন পালের কোন দয়ামায়া নাই।

এলজেব্রা কষতে গিয়ে
আমি সবুজ কষি, কষি তোমার নাকফুল।

অমনোযোগের শাস্তি বেঞ্চে দাঁড়ানো,
তবে মন্দ লাগছে না।

জানালার বাইরে তোমাদের স্কুলের
চকচকে নতুন বিল্ডিং
অসংখ্য সবুজের সমারোহ।

কোন এক সবুজে তুমিও আছো
উৎসুক চোখ বাইরে তাকিয়ে আছে।

চোখের দূরবীন তোমাকে খুঁজছে
বুকে চিনচিনে ব্যাথা;
মেয়ে তুমি কী জানো
তুমিই বুকের ধ্রুপদী দাগ।

তুমি কোথায়?

nit

তোমাকে খুঁজি!
পথেঘাটে, বনজঙ্গলে, পাহাড়ের কোণে,
হিমালয় পর্বতে, এখানে-সেখানে,
খুঁজেছি বহু এই পৃথিবীর সবখানে
পাইনি কোথাও, দেখি-ও-নি দু’নয়নে।

তুমি কোথায়?
খুঁজে পাই অন্তর দৃষ্টিতে,
আকাশে-বাতাসে, বজ্রপাতে, বৃষ্টিতে,
তুফানে, জলোচ্ছ্বাসে, সুস্বাদু ফলের মিষ্টিতে,
সাগর নদীতে আর তোমার সৃষ্টিতে।

তুমি সত্যি আছো!
পাহাড়-পর্বত হিমালয় বলে,
নদী বলে, পাহাড়ের ঝর্ণায় বলে,
পূর্ণিমার চাঁদ বলে, আকাশে তারা বলে,
মনের বিশ্বাস বলে, এ দেহের নিশ্বাস বলে।

নিতাই বাবু
২৬/০৮/২০২৩ইং।

বিশ্বকবিকে শ্রদ্ধাঞ্জলি

ওগো মহান কবি, বিশ্বকবি
আজ তোমার জন্মতিথির
এই মিলন সন্ধিক্ষণে
লহ মোর সহস্র প্রণাম।

তুমি মোর গুরু, তুমি মোর পিতা
তোমার গানে পাই আমি কথা —-
সে গান আমার কণ্ঠে বাজে।

তার সুরের কোমল মূর্ছনায়
আমি মুগ্ধ, অভিভূত
নয়নের ধারা বয় অবিরত।

আমি খুঁজে পাই তোমায়
তোমারি গানে গানে।
হে কবি, তোমার ওই সুন্দর
দেবোপম কান্তি স্নিগ্ধতায় ভরপুর।
সেই রূপ আমার মনে আনে
প্রগাঢ় শান্তির অনুভূতি।

কে বলে তুমি নেই ?
তুমি আছ, তুমি থাকবে,
এই মানবজাতির হৃদয়ে
প্রতিদিন বহুদিন চিরন্তন ভাবনায়।

আয়না

ria

প্রতিদিন আয়নার সামনে দাঁড়ালে
দেখতে পাই আমার
অন্য এক অস্তিত্ব,
যেখানে আমার গোপন ক্ষতগুলো
দগদগে ঘা হয়ে ফুটে ওঠে।

আমার চারপাশে অসংখ্য আয়না
বার বার ক্ষতগুলোকে
চিনিয়ে দিতে চায়,
ক্রমশ সরে যাই নিরাপদ দূরত্বে।
সঠিক আয়নার সামনে
দাঁড়ানো হয়ে ওঠে না আর।

ছোঁয়াচে রোগ

একদিন বৃষ্টির তোড়ে ভেসে যাওয়া কিছু কথা
আজ বৃষ্টির জলের সাথেই ফিরে এসেছে
দৈবাৎ কোনো শকুনের চোখ পড়েনি
দৈবাৎ কোনো প্রকাণ্ড দেহি চিল ছোঁ মারেনি!!

হয়ত এভাবেই ফিরে আসবে পড়শির অধিকার
হয়ত এভাবেই ফিরে আসবে বাপ-দাদার উত্তরাধিকার!

ওদের কারো কারো চুনকাম করা অদ্ভুত মুখ
কেউ কেউ বিপন্ন প্রজাতির গুটি বসন্তে খুঁজে
ফিরছে পঞ্চম প্রজন্ম আগের হারানো সুখ!

তবুও আমাদের বেঁচে থাকে ভোগ আর সম্ভোগ
তবে কি…
করোনার মতোন এও কোনো ছোঁয়াচে রোগ?